video video video



বিপিএলের চমক হিসেবে জাতীয় দলে হাসান মাহমুদ, পরিবারে আনন্দের বন্যা


SPORTSONLY.NET :
18.01.2020

পরিবারের সঙ্গে হাসান মাহমুদ (মাঝে)

পাকিস্তান সফরে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলে নতুনমুখ লক্ষ্মীপুরের হাসান মাহমুদ। সদ্য শেষ হওয়া বঙ্গবন্ধু বিপিএলে বোলিংয়ে গতির ঝড় তুলে তিনি জাতীয় দলে সুযোগ পেয়েছেন।

শনিবার দুপুরে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) থেকে মোবাইল ফোনে কল করে তাকে বিষয়টি জানানো হয়। এরপর থেকে তার পরিবারে যেন ঈদ আনন্দ।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অভিনন্দন জানিয়ে তার ছবি ভাইরাল হয়েছে। জাতীয় দলে হাসান মাহমুদ লক্ষ্মীপুরের প্রথম ক্রিকেটার।

এবার বিপিএলের পারফরম্যান্স দিয়ে দলে জায়গা করে নেওয়াদের মধ্যে সবচেয়ে বড় চমক হাসান মাহমুদ। উইকেটশিকারে তাঁর নাম ওপরের দিকে নেই। তবে গতির ঝড় তুলেছেন ভালোই।

সদ্য শেষ হওয়া বঙ্গবন্ধু বিপিএলে ঢাকা প্লাটুনের হয়ে হাসান মাহমুদ ১৩ ম্যাচে ১০ উইকেট নিয়েছেন। এরমধ্যে খুলনা টাইগার্সের বিপক্ষে ৩২ রানে ৪ উইকেট নিয়ে ম্যাচ সেরা হন। বিপিএলে তিনি নিখুঁত লাইন ও লেন্থের পাশাপাশি গতি দিয়ে আলোচিত ছিলেন। ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১৪২.৪০ কিলোমিটার গতিতে বোলিং করার রেকর্ড আছে তার। টুর্নামেন্টে নিয়মিত ১৩৫ থেকে ১৪০ কিলোমিটার গতিতে বোলিং করেছেন।

ঢাকার কোচিং স্টাফ থেকে বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসানও প্রশংসা করেছেন ২০ বছর বয়সী এ ডানহাতি পেসারের। লক্ষ্মীপুরের এ পেসার উঠে এসেছেন বয়সভিত্তিক ক্রিকেট খেলে।

হাসান মাহমুদ লক্ষ্মীপুর পৌরসভার ৬নম্বর ওয়ার্ডের অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা মো. ফারুক ও গৃহিণী মাহমুদা খাতুন রাণীর ছোট ছেলে। তারা দুই ভাই ও তিন বোন। ভবিষ্যতে সফলতা কামনা করে তার বাবা-মা ছেলের জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন।

হাসান মাহমুদ নিউজিল্যান্ডের মাটিতে বাংলাদেশের হয়ে লড়েছেন অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে। ২০১৮ সালের ২৮ জানুয়ারি নিউজিল্যান্ডের কুইন্সটাউনে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৩ উইকেট নেন। তখন তার বোলিংয়ের প্রশংসা করে ‘ভবিষ্যৎ স্টার’ লিখে টুইট করে আইসিসি। ক্রিকেট খেলায় বাবা-মায়ের পাশাপাশি তার অনুপ্রেরণা জেলা ক্রীড়া সংস্থার কোচ মনির হোসেন।

২০১২ সালের শেষ দিকে জেলা ক্রিকেট একাডেমিতে কোচ মনিরের সঙ্গে হাসানের পরিচয়। মিডিয়াম পেস বোলার হিসেবে হাসানের ক্রিকেট খেলা শুরু। প্রথম থেকে তার রান-আপ, গেদার, ব্যাকফুট, ল্যান্ডিং, রিলিজ, বলিং স্পট, অ্যান্ড ফলো থ্রো গুড ছিল। বিকেএসপিতে সুযোগ পাওয়ার পর থেকে বোলিংয়ে গতি বেড়ে যায়।

হাসানের বাবা মো. ফারুক জানান, পড়ালেখার পাশাপাশি ক্রিকেট খেলায় হাসানের আগ্রহ ছিল। কিছু কিছু সময় খেলার মাঠ থেকে হাসান পরীক্ষা দিতে যেতেন। অবসর সময়ে ক্রিকেট নিয়ে ব্যস্ত থাকতেন।

‘‘আশা করছি, ভালো বোলিং করে দেশের সুনাম বাড়াতে সক্ষম হবে।’’

হাসান মাহমুদ বলেন, বঙ্গবন্ধু বিপিএলে অভিজ্ঞ কোচের প্রশিক্ষণ ও খেলোয়াড়দের সঙ্গে খেলতে পেরে অনেক কিছু শিখেছেন। আল্লাহর রহমতে ৪ উইকেট পেয়ে একটি ম্যাচে সেরা হয়েছেন। এটা তার বড় পাওয়া।

প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে হাসান মাহমুদ বলেন, ‘‘জাতীয় দলে সুযোগের বিষয়টি বিসিবি থেকে আমাকে ফোনে জানিয়েছে। তাৎক্ষণিক আমি বিশ্বাস করতে পারছিলাম না।’’

পরে বিষয়টি তিনি বাবা-মা, প্রিয় কোচ মনির হোসেন ও বন্ধু-বান্ধবকে জানান। সবাই খুশি হয়েছেন। দেশের জন্য নিজের সেরাটা খেলার জন্য চেষ্টা করবেন। এ জন্য তিনি সকলের কাছে দোয়া চেয়েছেন।

বিপিএল শেষে লক্ষ্মীপুরে আসেন হাসান মাহমুদ। পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে কয়েক দিন কাটিয়ে ঢাকায় ফেরার ইচ্ছা ছিল। বিসিবির ডাকে তাকে ঢাকায় ফিরতে হচ্ছে। এরপর যেতে হবে পাকিস্তানে।



Copyright © 2019 sportsonly.net