video video video



ক্রিকেটে নো বল কত প্রকার ও কি কি?


SPORTSONLY.NET :
09.11.2019

ক্রিকেটে ‘নো বল’ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। অনেক ক্ষেত্রে একটি নো বল ম্যাচ হারার কারণও হতে পারে। বিশেষ করে ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ত সংস্করণে একটি মাত্র নো বল বদলে দিতে পারে ম্যাচের ভাগ্য। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, নো বল কেন হয় অথবা কিভাবে হয়?

১. নো বলের নিয়মে সব থেকে কমন নিয়ম আমরা যেটা জানি, সেটা হচ্ছে ফ্রন্টফুট নো বল এবং ব্যাকফুট নো বল। বল ডেলিভারি দেবার মুহূর্তে সম্পূর্ণ পা পপিং ক্রিজের বাইরে ল্যান্ড করলে নো বল হয়, তবে ক্রিজের ভেতরে ল্যান্ড করে পিছলে বাইরে চলে গেলে নো বল হবে না। অর্থাৎ, ল্যান্ড করার জায়গাটাকেই প্রাধান্য দেয়া হয়। যদি বোলারের পায়ের স্পর্শ করা অংশ ক্রিজের বাইরে থাকে, এবং কিছু অংশ ভেতরে শুন্যে থাকে তাহলে ফাস্ট বোলারদের ক্ষেত্রে সেটা নো বল বলে বিবেচিত হবে, তবে স্পিনারদের জন্য সেটা নো বল নয়।

২. বল ডেলিভারি দেবার মুহূর্তে পেছনের পা যদি রিটার্ন ক্রিজের সম্পূর্ণ ভেতরে না থাকে তাহলে সেটা নো বল হবে। যদি পেছনের পায়ের সামান্যতম অংশও রিটার্ন ক্রিজের বাইরে চলে যায় তাহলেই সেটা নো বল বলে পরিগণিত হবে।

৩. বল ডেলিভারি হবার পর পিচে ড্রপ না পড়ে যদি ব্যাটসম্যানের কোমরের উপর দিয়ে যায় তাহলে সেটা নো বল হবে। ব্যাটসম্যান সোজা হয়ে দাঁড়ালে তার কোমরের উচ্চতাকে ষ্ট্যাণ্ডার্ড হাইট হিসাবে ধরা হবে। এটাকে বীমার বলা হয়। একজন ফাস্ট বোলার ২ টি বীমার করলে আম্পায়ার তাকে সেই ম্যাচে বল করা থেকে অব্যাহতি দিতে পারে।

৪. পিচে ড্রপ পড়ে মাথার উপর দিয়ে চলে যাওয়া বলকে ওয়াইড হিসাবে ধরা হয়। তবে ওই ওভারেই যদি কোনো বল আবারো কাঁধের উপর দিয়ে যায়, সেক্ষেত্রে বলটিকে নো বল হিসেবে বিবেচনা করা হবে। অর্থাৎ কাঁধের উপর দিয়ে ১টি বাউন্সার লিগ্যাল, ২য়টি নো বল। এটি টি২০ ফরম্যাটের জন্য। তবে টেস্ট এবং ওয়ানডে ফরম্যাটে ২টি বল কাঁধের উপর দিয়ে করা যাবে, তবে অবশ্যই মাথার উপর দিয়ে নয় অর্থাৎ ২টি বল কাঁধের উপর লিগ্যাল এবং পরেরগুলো নো বল হিসেবে বিবেচিত হবে।

৫. বোলার বল না করে বলটি ছুঁড়ে মারলে সেটা নো বল হবে।

৬. বল করার সময় বোলার বোলিং প্রান্তের উইকেট ভেঙে ফেললে নো বল হবে।

৭. আম্পায়ারকে না জানিয়ে বোলিং হাত বদলে ফেললে নো বল হবে। অর্থাৎ ডানহাতে বল করতে করতে কোন বল না জানিয়েই বামহাতে করা যাবে না।

৮. আম্পায়ারকে না জানিয়ে বোলিং সাইড বদলে ফেললে নো বল হবে। অর্থাৎ ওভার দ্যা উইকেট বল করতে থাকা বোলার না জানিয়ে রাউন্ড দ্যা উইকেট বল করতে পারবে না।

৯. আন্ডারআর্ম বল করলে নো বল হবে, যদি না ম্যাচের আগে দুই দলের সন্মতি না থাকে।

১০. বোলার ডেলিভারি স্ট্রাইডে আসার আগেই বলটি ছুঁড়ে মারলে (রান আউট করার জন্য) সেটা নো বল হবে। তবে বোলিং প্রান্তের ক্রিজে প্রবেশ না করেও নরমাল বল করা যায়। ধরুন, ব্যাটসম্যান, বোলার বল ডেলিভারি করার আগেই দৌড় শুরু করলো রান নেবার জন্য, অথবা ব্যাটসম্যান আগের থেকেই মাঝ পিচ বরাবর এসে ব্যাট করছে। তখন বোলার চাইলে ব্যাটিং প্রান্ত বা বোলিং প্রান্তের ব্যাটসম্যানকে রান আউট করতে পারে। ব্যাটিং প্রান্তের ব্যাটসম্যানকে আউট করার একটু অসুবিধা আছে, সেটা হল বোলিং স্ত্রাইডে আসার আগেই যদি সে সেই চেষ্টা করে এবং রান আউট করতে ব্যর্থ হয় তাহলে নো বল হবে। তবে বোলিং স্ত্রাইডে আসার পর রান আউটের চেষ্টা করে ব্যর্থ হলে নো বল হবে না। আর, বোলিং প্রান্তের ব্যাটসম্যানকে রান আউটের চেষ্টা করে ব্যর্থ হলেও কোনো নো বল হবে না, যেটাকে আমরা মানকাড নামে জানি।

১১. বল ব্যাটসম্যান প্রান্তের পপিং ক্রিজে পৌঁছানোর আগেই যদি দুই বারের বেশি ড্রপ পড়ে তাহলে সেটা নো বল হবে। আইপিএলসহ অন্যান্য ডোমেস্টিক লিগে অবশ্য একবারের বেশি ড্রপ পড়লেই নো বল কল করা হয়।

১২. ব্যাটিং প্রান্তের উইকেটের আগেই বল থেমে গেলে নো বল কল করার নিয়ম আছে।

উপরের এই ১২টি নিয়ম বোলারদের জন্য। কিন্তু, বোলারদের এই সকল ভুল বাদেও নো বল হতে পারে। সেটা হয় ফিল্ডারদের কারণে। চলুন দেখে নেয়া যাক, ফিল্ডারদের কারণে কিভাবে নো বল হতে পারে!

১. উইকেট কিপার যদি, বল ব্যাটসম্যানের ব্যাট বা অন্য কোথাও স্পর্শ করার আগেই শরীরের কোনো অংশ উইকেট লাইনের ভেতরে নিয়ে আসে তাহলে সেটা নো বল হবে, এমনকি বল উইকেট লাইন অতিক্রম করার আগেই যদি শরীরের কোনো অংশ উইকেট লাইনে নিয়ে আসে অথবা বল স্পর্শ করে তাহলেও সেটা নো বল হবে।

২. বল করার মুহূর্তে বোলার বাদে অন্য কোনো ফিল্ডার যদি শরীরের কোনো অংশ পিচের উপরে বা শুন্যে রাখে তাহলে সেটা নো বল হবে।

৩. দুই ফিল্ডারের অধিক যদি ব্যাটসম্যান প্রান্তের উইকেটের পেছনে ফিল্ডিং করে তাহলে নো বল হবে।

৪. এছাড়া ফরম্যাট অনুযায়ী ফিল্ডিং রুলস ব্রেক করলে নো বল হবে। যেমন, পাঁচ জন ফিল্ডারের বেশি লেগ সাইড ফিল্ডিং করতে পারবে না এবং পাঁচ জন ফিল্ডারের বেশি ৩০ গজের বাইরে থাকতে পারবে না (ওয়ানডে ফরম্যাট)। এক্ষেত্রে বোলারকে ফিল্ডার হিসাবে বিবেচনা করা হয় না।

৫. বোলার বল করার মুহূর্তে যদি কোনো ফিল্ডার ব্যাটসম্যানের মনোযোগ বিঘ্নিত করে (কথা বলা, স্লেজ করা, শব্দ করা, চিৎকার করা) তাহলে নো বল কল করার নিয়ম রয়েছে।

মাঠের দু’জন আম্পায়ার ইচ্ছা করলেই সব ধরনের নো বল ডাকতে পারবে না। যার যার নো বল ডাকার একটি সীমানা রয়েছে।

-ফ্রন্টফুট, ব্যাকফুট, বোলার চাক বা ছুঁড়ে মারলে এবং ফিল্ডার পিচের ভেতর প্রবেশ সংক্রান্ত কারনে বোলার প্রান্তের আম্পায়ার নো বল ডাকার ক্ষমতা রাখে।

-শর্ট বল, বীমার, উইকেটরক্ষকের রুলস ব্রেক, ফিল্ডিং রুলসের ব্যাপারে লেগ আম্পায়ার নো বল ডাকার ক্ষমতা রাখে।



Copyright © 2019 sportsonly.net