video video video



বিশ্বকাপে জন্মভূমি ছেড়ে অন্য দেশের হয়ে খেলছেন যে ৭ ক্রিকেটার


SPORTSONLY.NET :
01.06.2019

ক্রিকেট বিশ্বকাপের বিগত ১১ আসরে অংশ নিয়েছেন ১ হাজার ৫৭ ক্রিকেটার। ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় আসরে নিজের দেশের প্রতিনিধিত্ব করা গর্বের বিষয়। তবে অনেকেই আছেন, যারা বিশ্বকাপ খেলছেন ঠিকই, কিন্তু নিজের জন্মভূমির পক্ষে নয়। নানা কারণে দেশান্তরিত হয়েছেন ছোটবেলাতেই।

অনেকে আবার প্রফেশনাল ক্রিকেটে নাম লিখানোর পরও নিজ দেশ ছেড়ে পাড়ি জমিয়েছেন অন্য দেশে।

দেখে নেওয়া যাক এবারের বিশ্বকাপে ভিনদেশী জার্সি গায়ে খেলা তারকাদের বৃত্তান্ত।

বেন স্টোকস (ইংল্যান্ড)
জন্মভূমি: নিউজিল্যান্ড
বেন স্টোকসের ১২ বছর বয়সে জন্মভূমি নিউজিল্যান্ড ছেড়ে তার পরিবার স্থানান্তরিত হয় ইংল্যান্ডে। অবশ্য এর ১০ বছর পর স্টোকসের পরিবার ফিরে যায় নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে। কিন্তু তিনি সিদ্ধান্ত নেন ইংল্যান্ডের হয়েই ক্যারিয়ার গড়ার। বর্তমানে তিনি ইংল্যান্ড দলের অপরিহার্য অংশ হয়ে উঠেছেন। চলতি বিশ্বকাপে তার ওপর ভরসা করেই তাকিয়ে আছেন সমর্থকরা।

ইমরান তাহির (দক্ষিণ আফ্রিকা)
জন্মভূমি: পাকিস্তান
বর্তমানে তার বয়স চল্লিশের কোঠায়। এ বয়সে এসেও দক্ষিণ আফ্রিকার স্পিন বিভাগের পুরো দায়িত্ব ইমরান তাহিরের কাঁধে। সামর্থের কারণে চলতি ২০১৯ বিশ্বকাপেও তার ওপর ভরসা রাখছেন দলের সবাই।

এর আগে দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে ২০১১ ও ২০১৫ বিশ্বকাপ খেললেও আতদের তার জন্মভূমি পাকিস্তান। তাহির ১ জানুয়ারি ২০১১ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা দলে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেন। ওই বছরই তিনি বিশ্বকাপের জন্য নির্বাচিত হন।

ইয়ান মরগান (ইংল্যান্ড)
জন্মভূমি: আয়ারল্যান্ড
ইংল্যান্ডের বর্তমান অধিনায়ক ইয়ান মরগান জন্মেছেন আয়ারল্যান্ডে। ২০০৬ সালে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে আয়ারল্যান্ডের হয়ে অভিষেক ঘটে তার। নিজের প্রথম ম্যাচেই করেন ৯৯ রান। ২০০৭ বিশ্বকাপে আয়ারল্যান্ডের অবিস্মরণীয় যাত্রার অংশ ছিলেন মরগান।
কিন্তু বিশ্বকাপের সানডে টাইমসের এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, ছোটবেলা থেকেই ইংল্যান্ডের জার্সি গায়ে জড়ানোর স্বপ্ন দেখছেন।
সেই সময় আইসিসির পূর্ণ সদস্য না হওয়ায় টেস্ট খেলার যোগ্যতা ছিল না আয়ারল্যান্ডের। কিন্তু এরই মধ্যে ভাগ্যের চাকা ঘুরে গেছে মরগানের।
মে ২০০৭ ইংল্যান্ডের লর্ডস টেস্টের জন্য ১২তম খেলোয়াড় হিসেবে রাখা হয় তাকে। পরবর্তীতে ২০০৯ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের জন্য নির্বাচিত হন।

কলিন ডি গ্র্যান্ডহোম (নিউজিল্যান্ড)
জন্মভূমি: জিম্বাবুয়ে
জিম্বাবুয়ের হারারেতে জন্ম অলরাউন্ডার কলিন ডি গ্র্যান্ডহোমের। জিম্বাবুয়ের ঘরোয়া লিগেই ক্রিকেটের হাতেখড়ি তার। ২০০৪ সালে বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ খেলতে জিম্বাবুয়ে দলের হয়েই বাংলাদেশ পা রেখেছিলেন এই ক্রিকেটার।
২০০৭ সালে ন্যাটওয়েস্ট টি-টোয়েন্টি ব্লাস্টে ওয়্যারউইকশায়ারের হয়ে দারুণ খেলেন তিনি। সেখান থেকে পরবর্তীতে কাকতালীয়ভাবে ২০১২ সালের ফেব্রুয়ারিতে নিজের জন্মভূমি জিম্বাবুয়ের বিপক্ষেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে ডি গ্র্যান্ডহোমের। চলতি বিশ্বকাপে নিউজিল্যান্ড দলেও বোলিং অলরাউন্ডার হিসেবে মূল একাদশে আছেন তিনি।

উসমান খাজা (অস্ট্রেলিয়া)
জন্মভূমি: পাকিস্তান
উসমান খাজার জন্ম পাকিস্তানের ইসলামাবাদে। কিন্তু পাঁচ বছর বয়সেই পাকিস্তান থেকে নিউ সাউথ ওয়েলসে পাড়ি জমায় তার পরিবার। অস্ট্রেলিয়াতেই ক্রিকেটের প্রতি আকৃষ্ট হন খাজা। পরবর্তীতে অস্ট্রেলিয়ার বয়সভিত্তিক দলগুলোতে খেলেই নিজের প্রতিভার জানান দেন তিনি।
২০১১-১২ অ্যাশেজে এসে খাজার সামনে খুলে যায় আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার দুয়ার। খাজার অভিষেকে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে প্রথম কোনো মুসলিম খেলোয়াড় হিসেবে প্রতিনিধিত্ব করার অভূতপূর্ব ঘটনার অবতারণা হয়। এরই মধ্যে
নিজ জন্মভূমি পাকিস্তানের বিপক্ষে দুর্দান্ত খেলে বিশ্বকাপের জন্য প্রস্তুতিও সেরে রেখেছেন তিনি। ওয়ার্নার ও ফিঞ্চের পাশাপাশি খাজাও ওপেনার। বিশ্বকাপের ১১ সদস্যের দলে খাজার থাকাটা নিশ্চিত হয়েছে এরই মধ্যে।

ইশ সোধি (নিউজিল্যান্ড)
জন্মভূমি: ভারত
১৯৯২ সালে ভারতের পাঞ্জাবের লুধিয়ানায় জন্ম ইশ সোধির। ছোটবেলা কাটে জন্মস্থান ভারতে। কিন্তু ১৯৯৬ সালে ৪ বছরের সোধিকে নিয়ে পুরো পরিবার পাড়ি জমায় নিউজিল্যান্ডে। ছোটবেলা থেকেই ক্রিকেটার হওয়ার স্বপ্ন ছিল সোধির। শুরু হয় সেই স্বপ্ন পূরণের পথে হাঁটা। ভাগ্যের দেখা মিলেও যায় এক সময়।

২০১২-১৩ সালে নিউজিল্যান্ডের ঘরোয়া লিগে খেলতে শুরু করেন সোধি। অবশেষে ২০১৩ সালে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে অভিষেক ঘটে তার। সেই সময় ড্যানিয়েল ভেট্টরি থাকায় তিনি একাদশে নিয়মিত ছিলেন না।
তবে ভেট্টরির বিদায়ের পর সোধিই হয়ে উঠেছেন নিউজিল্যান্ডের স্পিন বিভাগের মূল শক্তি। চলতি বিশ্বকাপেও মিচেল স্যান্টনারের সঙ্গে স্পিন বিভাগ সামলানোর দায়িত্ব তার কাঁধেই।
জানুয়ারি ২০১৮ টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিকে নাম্বার-১০ থেকে এক লাফে নাম্বার-১ বোলারের খ্যাতি অর্জন করেন সোধি।
২০১৩ সালে নিউজিল্যান্ড সফররত বাংলাদেশের বিপক্ষে টেস্ট ম্যাচ দিয়ে তার অভিষেক ঘটে। টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিকে অভিষেক ঘটে ২০১৪ সালের জুলাই মাসে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে। সেই বছরই পাকিস্তানের বিপক্ষে তিনটি টেস্ট খেলার সুযোগ পান তিনি।

জোফরা আর্চার (ইংল্যান্ড)
জন্মভূমি: ওয়েস্ট ইন্ডিজ
ওয়েস্ট ইন্ডিজের বার্বাডোজে জন্ম জোফরা আর্চারের। তিনি ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের হয়ে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ খেলেছেন।
২০১৭ সালের বিপিএল-এ খুলনা টাইটান্সে ২২ ম্যাচে ২৪ উইকেট নিয়েছিলেন আর্চার।
ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (আইপিএল) রাজস্থান রয়্যালসের হয়ে ১০ ম্যাচে পেয়েছেন ১৫ উইকেট।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের জন্ম নেওয়া এই আর্চার এবার বাবার দেশ ইংল্যান্ডের হয়ে বিশ্বকাপ খেলছেন।

আর্চারের বাবা একজন ইংলিশ এবং আর্চারের বৃটিশ পাসপোর্ট রয়েছে। আগের নিয়ম অনুযায়ী ২০২২ সালের আগে ইংল্যান্ডের হয়ে খেলার সুযোগ পেতেন না তিনি। কিন্তু নতুন নিয়মে কারো বয়স ১৮ হওয়ার পর তিন বছর ইংল্যান্ডে অবস্থান করলে তিনি সে দেশের হয়ে খেলার সুযোগ পাবেন। আর্চার ২০১৫ সাল থেকেই ইংল্যান্ডে আসা-যাওয়া করছিলেন।

এরই মধ্যে চলতি বিশ্বকাপে ইংল্যান্ড দলের হয়ে মাঠ কাঁপাতে শুরু করেছেন এই অলরাউন্ডার।

 



Copyright © 2019 sportsonly.net