video video video



কে এই লরি ইভান্স?


SPORTSONLY.NET :
21.01.2019

সাসেক্সের জার্সিতে লরি ইভান্স। ছবি: সংগৃহীত

গত ৫ জানুয়ারি ২০১৯ মাঠে গড়িয়েছে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল)। এরই মধ্যে দুই পর্বে ঢাকা ও সিলেটে ২২টি ম্যাচ শেষে তৃতীয়পর্বে ফের ঢাকায় ফিরেছে ঘরোয়া ক্রিকেটের সবচেয়ে জনপ্রিয় এই টুর্নামেন্ট।

 

প্রথম দুই পর্বে দেশি-বিদেশি কোনো ক্রিকেটার সেঞ্চুরির দেখা না পেলেও তৃতীয় পর্বের প্রথম ম্যাচেই সেই কাঙ্ক্ষিত সাফল্য ছুঁলেন রাজশাহী কিংসের বিদেশি খেলোয়াড় লরি ইভান্স। সোমবার (২১ জানুয়ারি, ২০১৯) ৬২ বলে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের বিপক্ষে অসাধারণ এক সেঞ্চুরি হাঁকান ইভান্স।

 

কে এই লরি ইভান্স?

১৯৮৭ সালের ১২ অক্টোবর যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডনের লাম্বেথ শহরে জন্ম লরি ইভান্সের। তার পুরো নাম লরি জন ইভান্স। বর্তমানে তার বয়স ৩১ বছর। ছোটবেলায় স্থানীয় জন ফিশার স্কুল ও হুইটগিফ্ট স্কুলে পড়াশোনা করেন তিনি। এরপর ভর্তি হন ডুরহাম ইউনিভার্সিটিতে।

 

উচ্চতায় ৬ ফুট লম্বা লরি মূলত ব্যাটিং অলরাউন্ডার। ডানহাতি এই ব্যাটসম্যান একজন ডানহাতি ফাস্ট-মিডিয়াম বোলারও বটে।

 

যেভাবে ক্রিকেটে হাতেখড়ি

ডুরহাম ইউনিভার্সিটিতেই ক্রিকেটে হাতেখড়ি লরি ইভান্সের। ডুরহাম এমসিসি ইউনিভার্সিটির হয়ে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট শুরু হয় ক্রিকেট জীবন। এরপর ২০০৯ সালের ৫ আগস্ট কাউন্টি ক্রিকেটে অভিষেক হয় তার। অভিষেকে সারে কাউন্টি ক্লাবের হয়ে ডারবিশায়ারের বিপক্ষে মাঠে নামেন ইভান্স।

 

যেভাবে রাগবি খেলোয়াড় থেকে ক্রিকেটার হলেন ইভান্স

খেলোয়াড়ি জীবনের শুরুর দিকে ইভান্স ছিলেন একজন সীমিত ওভারের ব্যাটসম্যান। পাশাপাশি তিনি তখন ছিলেন ইংল্যান্ডের একজন সম্ভাবনাময় ও সুপরিচিত রাগবি খেলোয়াড়। তার স্বপ্ন ছিল একজন জনপ্রিয় রাগবি খেলোয়াড় হিসেবে জীবন গড়ার। তার সহপাঠী ছিলেন ড্যানি সিপরিয়ানি, বর্তমানে ইংল্যান্ডের অন্যতম জনপ্রিয় রাগবি তারকা। ড্যানি চেয়েছিলেন ইভান্স কখনোই রাগবি ছেড়ে ক্রিকেটে চলে না যাক।

 

কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা আর হলো না। ক্রমাগত কাঁধের ইনজুরির কারণে বাধ্য হয়ে রাগবি ছেড়ে দিলেন ইভান্স। বাগবি ছাড়লেও হাল ছাড়েননি তিনি। পেশাদারি ক্যারিয়ার গড়তে এবার হাতে তুলে নিলেন ব্যাট-বল।

 

প্রথম দিকে তিনি ছিলেন ডানহাতি মিডিয়াম পেস বোলার, যিনি ব্যাটও করতে পারেন। ডুরহাম ইউনিভার্সিটিতে সাবেক ইংলিশ ক্রিকেটার গ্রায়েম ফোলারের কাছে প্রশিক্ষণ নেন ইভান্স। এই ফোলারই ইভান্সকে তার শক্তি ও সামর্থের বিষয়ে সচেতন করে তোলেন। তার তত্ত্বাবধানে অল্প কিছু দিনের মধ্যেই বিধ্বংসী ব্যাটসম্যান হিসেবে আবির্ভূত হন ইভান্স।

 

ডুরহাম ইউনিভার্সিটিতে জীবনের দ্বিতীয় ম্যাচেই অসাধারণ সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে দৃষ্টি কারেন স্থানীয় ক্রিকেট ক্লাবগুলোর। এরপরই সারে কাউন্টি ক্রিকেট ক্রিকেট ক্লাব তাকে লুফে নেয়। কিন্তু সেখানে অনেক যুদ্ধ করেও নিজেকে মেলে ধরতে পারেননি ইভান্স। ২০১০ সালে সারে তাকে ছেড়ে দেয়।

 

ওয়ার্কশায়ারে যোগ দান ও জ্বলে ওঠা

ব্যর্থতার কারণে সারে ছেড়ে দিলেও বসে থাকতে হয়নি ইভান্সকে। দ্রুততম সময়ের মধ্যেই তাকে দলে ভেড়ায় আরেক কাউন্টি ক্লাব ওয়ার্কশায়ার। এখানে এসেই নিজের সামর্থের প্রমাণ দেন ইভান্স।

 

ওয়ার্কশায়ারে ২০১০-২০১৩ সালের মধ্যে প্রায় ১০০টি ম্যাচ খেলেন ইভান্স। এই ১০০ ম্যাচে ২০টির বেশি সেঞ্চুরি হাঁকান তিনি।

 

ক্যারিয়ারে উত্থান-পতন

সাদা বলের সংস্করণে ওয়ার্কশায়ারে ইভান্সের কিছু স্মরণীয় পারফম্যান্স থাকলেও ২০১৪ সালে ন্যাটওয়েস্ট টি-টোয়েন্টি ফাইনালে তার ৩০ বলে ৫৩ ম্যাচ জয়ী ইনিংস ও একই বছর রয়েল লন্ডনে ওয়ানডে কাপে সারের বিপক্ষে ১৫ বলে ৪৩ রানের অসাধারণ ইনিংস তাকে এনে দেয় অসামান্য পরিচিতি ও খ্যাতি।

 

কিন্তু তার এই ফর্মও বেশি দিন স্থায়ী হয়নি। ফলে ২০১৬ সালে তার সঙ্গে চুক্তি সমাপ্ত করে কাউন্টি ক্লাব বার্মিংহাম। এরপর তিনি ২০১৭ সালে মৌসুম শুরুর আগে দিয়ে যোগ দেন আরেক কাউন্টি ক্লাব সাসেক্সে। এখানে এসে সীমিত ওভারে তিনি ধারাবাহিক রান পেলেও চ্যাম্পিয়নশিপের ম্যাচে নিজেকে মেলে ধরতে পারেননি। তবে সাসেক্সে সীমিত ওভারের খেলায় ইভান্স এখনও অন্যতম প্রধান হাতিয়াড়।

 

 

যেভাবে হাঁকালেন বিপিএল-২০১৯ এর প্রথম সেঞ্চুরি

বিপিএলের ষষ্ঠ আসরে নিজের প্রথম ম্যাচে ইভান্স করেছিলেন ১০ রান। পরের চার ম্যাচে দুই অঙ্কেই যেতে পারেননি। পাঁচ ম্যাচে সাকুল্যে রান মাত্র ১৩। সেই লরি ইভান্স আজ শুধু জ্বলেই উঠলেন না, বিপিএলের ষষ্ঠ আসরে প্রথম সেঞ্চুরির দেখা মিলল তার ব্যাট থেকেই!

 

মিরপুরে সোমবার (২১ জানুয়ারি, ২০১৯) রাজশাহী কিংসের হয়ে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের বিপক্ষে সেঞ্চুরি করলেন তিনি। ৩১ বছর বয়সি ব্যাটসম্যান মাত্র ৬২ বলে ৯ চার ও ৬ ছক্কায় খেলেছেন অপরাজিত ১০৪ রানের বিস্ফোরক এক ইনিংস।

 

মুখোমুখি প্রথম ১৪ বলে ইভান্স করেছিলেন মাত্র ৯ রান। রাজশাহী অবশ্য ততক্ষণে হারিয়ে ফেলেছে ২ উইকেট। ষষ্ঠ ওভারে শহীদ আফ্রিদিকে তিন চার হাঁকিয়ে শুরু ইভান্সের ঝড়।ইংলিশ ডানহাতি ব্যাটসম্যান ১৪তম ওভারে থিসারা পেরেরাকে দুই ছক্কা হাঁকানোর পথে ফিফটি তুলে নেন ৪০ বলে।

 

পরের পঞ্চাশ রান করতে ইভান্সের লেগেছে মাত্র ২১ বল! আগের ওভারে পাকিস্তানি পেসার ওয়াহাব রিয়াজকে দুই ছক্কা ও এক চারে ৮৩ থেকে পৌঁছে গিয়েছিলেন ৯৯-এ। শেষ ওভারে থিসারাকে লং অফে ঠেলে সিঙ্গেল নিয়ে ছুঁয়ে ফেলেন তিন অঙ্ক।

 

২৩তম ম্যাচে এসে এবারের বিপিএল দেখল প্রথম সেঞ্চুরি। সিলেট পর্বে রংপুর রাইডার্সের বিপক্ষে সিলেট সিক্সার্সের সাব্বির রহমানের ৮৫ ছিল আগের সর্বোচ্চ। ইভান্সের ক্যারিয়ারেরও প্রথম টি-টোয়েন্টি সেঞ্চুরি এটি। আর বিপিএলের ইতিহাসে ১৩তম সেঞ্চুরি।

 

গত বছর ইংল্যান্ডের টি-টোয়েন্টি ব্লাস্টে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক ছিলেন ইভান্স। সাসেক্সের হয়ে ১৫ ম্যাচে ৬৮.২২ গড়ে করেছিলেন ৬১৪ রান। কিন্তু বিপিএলে শুরুতে রান পাচ্ছিলেন না। অবশেষে তিনি রাজশাহীকে বড় ইনিংস উপহার দিলেন।

 

ইভান্সের সেঞ্চুরির পাশাপাশি এদিন ফিফটি করেছেন রায়ান টেন ডেসকাট। ৪১ বলে ২ চার ও ৩ ছক্কায় ৫৯ রানে অপরাজিত ছিলেন এই ডাচ ব্যাটসম্যান। ২৮ রানে ৩ উইকেট হারানোর পর চতুর্থ উইকেটে এই দুজনের ৮৩ বলে অবিচ্ছিন্ন ১৪৮ রানের জুটিতে ২০ ওভারে ১৭৬ রানের পুঁজি পেয়েছে রাজশাহী।

 

বিপিএলে চতুর্থ উইকেটে এটি সর্বোচ্চ রানের জুটির নতুন রেকর্ড। ইভান্স ও ডেসটাট ছাড়িয়ে গেছেন ২০১৫ বিপিএলে চিটাগং ভাইকিংসের বিপক্ষে কুমিল্লার মারলন স্যামুয়েলস ও মাশরাফি বিন মুর্তজা জুটির ১২৩ রানকে।

 

স্পোর্টস অনলি/২১ জানুয়ারি ২০১৯



Copyright © 2019 sportsonly.net