video video video



ক্রিকেটের যে ১০ রেকর্ড ভাঙা অসম্ভব!


SPORTSONLY.NET :
07.10.2018

বিশ্বজুড়ে ক্রিকেট একটি অন্যতম জনপ্রিয় খেলা। এই খেলায় প্রায়ই কিছু রেকর্ড গড়তে দেখা যায় খেলোয়াড়দের। এর মধ্যে কিছু রেকর্ড সময়ের সঙ্গে, বছরের ব্যবধানে ভেঙে যায়, আবির্ভাব হয় নতুন রেকর্ড হয়ে। আবার কিছু রেকর্ড কয়েক দশক পর্যন্তও টিকে থাকে। কিন্তু ঐতিহাসিক এই খেলায় এমন কিছু অসাধারণ রেকর্ড আছে যা ভেঙে নতুন রেকর্ড করা প্রায় অসম্ভব বলেই মনে হয়। নিচে এমন ১০টি রেকর্ড তুলে ধরা হলো:

#১. ডন ব্রাডম্যানের ৯৯.৯৪ টেস্ট ব্যাটিং এভারেজ

 

১৯০৮ সালের ২৭ আগস্টে অস্ট্রেলিয়ার কুটামুন্ড্রায় জন্ম গ্রহণ ডন ব্রাডম্যান। তিনি তার অসাধারণ ক্রিকেট নৈপূণ্যের জন্য ‘দ্য ডন’ নামে খ্যাত। অস্ট্রেলিয়ার এই ক্রিকেটার ক্যারিয়ারের ৮০টি টেস্ট ইনিংসে ৯৯.৯৪ গড়ে রান তোলার কৃতিত্ব অর্জন করেছেন, যা ক্রিকেট ইতিহাসে একটি বিস্ময়কর ঘটনা। আজ পর্যন্ত তার ধারে কাছেও যেতে পারেননি কেউ। তালিকায় থাকা দ্বিতীয় খেলোয়াড় ৬০ এর কিছু বেশি গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছেন।

 

ব্রাডম্যানের আরও একটি অসাধারণ রেকর্ড হচ্ছে প্রথম-শ্রেণির ক্রিকেটে তার রানের গড় ৯৫.১৪, যা ভাঙা প্রায় অসম্ভব বলেই বিশ্বাস করেন ক্রিকেটবোদ্ধারা।

#২. মুরালির ১,৩৪৭ আন্তর্জাতিক উইকেট

 

১৯৭২ সালে শ্রীলঙ্কার কান্ডি অঞ্চলে জন্মগ্রহণ করেন মুত্তিয়া মুরালিধরন। শ্রীলঙ্কার হয়ে যখন ক্রিকেটে অভিষেক হয়, তখন তার বয়স ছিল ২০। অসাধারণ বোলিং নৈপূণ্যে অল্প সময়েই ক্রিকেটে দারুণ সাফল্য পান তিনি। যদিও তার অস্বাভাবিক বোলিং স্টাইল বেশ কয়েকবার বিতর্কের জন্ম দিয়েছিল। তবে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর আইসিসি থেকে অনাপত্তিপত্রও পেয়ে যান তিনি। আর তার বোলিংয়ে কুপোকাত হতে থাকে ক্রিকেটের বাঘা বাঘা ব্যাটসম্যানরা।

 

অভিষেকের প্রায় ২০ বছর পর ডান হাতি অফ-ব্রেক বোলার মুরালির ঝুলিতে জমা হয় ৮০০ টেস্ট এবং ৫৩৪ ওয়ানডে উইকেট, যা স্ব স্ব বিভাগে অসাধারণ রেকর্ড হিসেবে নথিবদ্ধ। এছাড়া টি-টোয়েন্টিতে রয়েছে তার ১৩টি উইকেট।

 

মুরালির এই অসামান্য রেকর্ড ভাঙা অসম্ভব বলেই মনে হয়।

 

#৩. জ্যাক হবসের ৬১,৭৬০ প্রথম-শ্রেণির রান

 

১৬ ডিসেম্বর ১৮৮২ সালে যুক্তরাজ্যের ক্যামব্রিজে জন্মগ্রহণ করেন জ্যাক হবস। বিংশ শতাদ্বীর শুরুর দিকে প্রথম শ্রণির ক্রিকেট অসাধারণ কৃতিত্ব অর্জন করেন তিনি। ১৯০৮ থেকে ১৯৩০ পর্যন্ত ইংল্যান্ড জাতীয় ক্রিকেট দলের হয়ে মাত্র ৬১টি ম্যাচ খেলেন তিনি। কিন্তু প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলেছেন ৮৩৪টি, রান তুলেছেন ৬১,৭৬০। যে কারণে ক্রিকেট বিশ্লেষকরা তাকে বিশ্বের সেরা ব্যাটসম্যানদের একজন হিসেবে উল্লেখ করেন।

#৪. জিম লাকারের ১৯/৯০ টেস্ট ম্যাচ বোলিং ফিগার

 

জিম লাকার ১৯২২ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাজ্যের ব্রাডফোর্ড শহরের ফ্রিজিংহল অঞ্চলে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৪৮ সালের ২১ জানুয়ারি ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে তার টেস্ট অভিষেক হয়। এরপর তিনি ইংল্যান্ডের হয়ে মোট ৪৬টি টেস্ট ম্যাচ খেলেন এই অফ-স্পিনার।

 

ক্রিকেট ক্যারিয়ারে ১৯৫৬ সালে ওল ট্রাফোর্ডে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বিরল কৃতিত্ব গড়েন তিনি। অস্ট্রেলিয়ার ২০ উইকেটের মধ্যে তিনি একাই ১৯টি উইকেট তুলে নেন। এতে খরচ হয় মাত্র ৯০ রান। ক্রিকেট ইতিহাসে এই টেস্ট ম্যাচ একটি ব্যতিক্রমী ম্যাচ হিসেবে বিবেচিত হয়, যা আজও পর্যন্ত ভাঙা সম্ভব হয়নি।

#৫. উইলফ্রেড রোডসের ৪২০৪ প্রথম-শেণির উইকেট

 

উইলফ্রেড রোডস ছিলেন ইংলিশ পেশাদার ক্রিকেটার। ১৮৭৭ সালের ২৯ অক্টোবর যুক্তরাজ্যের হাডার্সফিল্ড শহরের কির্কহেটনে জন্ম তার। মারা যান ১৯৭৩ সালের ৮ জুলাই পুলেতে।

 

ক্রিকেট ক্যারিয়ারে তিনি ১৮৯৯ থেকে ১৯৩০ সাল পর্যন্ত ইংল্যান্ডের হয়ে ৫৮টি টেস্ট ম্যাচ খেলেছেন। ব্যাট হাতে এতে তিনি করেছেন ২৩৩৫ রান। আর বল হাতে পেয়েছেন ১২৭ উইকেট। তিনি ছিলেন প্রথম ইংলিশ কোনো ব্যাটসম্যান যিনি টেস্টে ২ হাজার রান ও ১০০ উইকেটের মাইলফলক অর্জন করেন।

 

কিন্তু তার এই রেকর্ডটি এখানে আলোচিত নয়। এখানে তার প্রথম-শ্রেণির উইকেট রেকর্ড আলোচ্য বিষয়। প্রথম-শ্রেণির ক্রিকেটে তিনি ৪,২০৪ উইকেট পেয়েছেন।

 

প্রথম-শ্রেণির ক্রিকেটে তার উইকেট সংখ্যাই বলে দেয় তিনি দীর্ঘদিন ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলেছেন। তিনি ছিলেন স্লো-বাঁহাতি-স্পিনার। যদিও ওই যুগে তুলনামূলক প্রতিযোগিতা কম ছিল। ফলে রোডস তার এই স্লোয়ার-স্পিন দিয়ে এতো উইকেট পেতে সক্ষম হয়েছেন। বর্তমান প্রতিযোগিতার যুগে এটা সত্যিই অসম্ভব। কিন্তু রেকর্ড তো রেকর্ডই। প্রথম-শ্রেণিতে এতো উইকেট আর কেউ তুলতে পারবেন বলে মনে হয় না।

#৬: অস্ট্রেলিয়ার টানা ১৬ টেস্ট জয়

 

ক্রিকেট বিশ্বে পরাশক্তি হিসেবে পরিচিত অস্ট্রেলিয়া। বর্তমানে কিছুটা খারাপ সময় গেলেও এক সময় ক্রিকেটে স্বর্ণালি যুগ পার করেছে অসিরা। তারা টেস্ট ইতিহাসে দু’বার টানা ১৬ টেস্ট ম্যাচ জয়ের রেকর্ড অর্জন করেছে।

 

প্রথমটি ছিল স্টিভ ওয়াহ এর নেতৃত্বে ১৯৯৯-২০০১ মেয়াদে। আর দ্বিতীয়টি ছিল ২০০৫-২০০৮ মেয়াদে রিকি পন্টিংয়ের অধীনে।

 

কোনো দলের জন্য এই রেকর্ড ভাঙা ততটা সহজ হবে না। কেননা, ক্রিকেট খেলা নির্ভর করে রৌদ্রোজ্জল আকাশের ওপর নির্ভর করে, যা অন্যান্য খেলায় ততটা দরকার হয় না। আর টেস্ট ম্যাচ যে কন্ডিশনে খেলা হয় তা খুব কঠিন। সুতরাং দু’বার কোনো দলের জন্য টানা ১৬ টেস ম্যাচ জয় পাওয়া এক রকম অসম্ভব বলেই মনে হয়।

#৭: চামিন্দাভাসের ৮/১৯ ওয়ানডে আন্তর্জাতিক বোলিং ফিগার

 

ওয়ানডে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ইতিহাসের সেরা বোলিং রেকর্ডটি বাঁ-হাতি শ্রীলঙ্কান পেসার চামিন্দা ভাসের দখলে। তিনি ২০০১ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সর্বকালের সেরা এই বোলিং রেকর্ড করেন।

 

চামিন্দা ভাসই একমাত্র বোলার যিনি এখন পর্যন্ত একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এক ম্যাচে ৮টি উইকেট তুলে নিতে সক্ষম হন।

 

এদিকে ২০০১ সালের ৮ ডিসেম্বর শ্রীলঙ্কার কলোম্বোতে অনুষ্ঠিত ওই ম্যাচে চামিন্দা ভাসের দুর্দান্ত বোলিংয়ে জিম্বাবুয়ে মাত্র ৩৮ রানে অলআউট হয়ে যায়, যা একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচে সর্বনিম্ন স্কোর।

 

উল্লেখ্য, চামিন্দা ভাস ১৯৭৪ সালের ২৭ জানুয়ারি শ্রীলঙ্কার ওয়াত্তালা শহরে জন্মগ্রহণ করেন। বাঁ-হাতি মিডিয়াম এই ফাস্ট বোলার শ্রীলঙ্কার হয়ে ক্রিকেটের তিন সংস্করণেই খেলেছেন। ক্রিকেট ক্যারিয়ারে তিনি ওয়ানডে দলের অধিনায়কও ছিলেন।

#৮. গ্রাহাম গুচের এক টেস্টে ৪৫৬ রান

 

ঘটনা ১৯৯০ সালের। লর্ডসে ভারতের বিপক্ষে এক টেস্টে ৪৫৬ রান তোলার গৌরব অর্জন করেন সাবেক ইংল্যান্ড অধিনায়ক গ্রাহাম আলান গুচ। ওই ম্যাচে প্রথম ইনিংসে তিনি করেন ৩৩৩ রান। এরপর আউট হয়ে যান। দ্বিতীয় ইনিংসে অল্প সময়েই ১২৩ রানের ঝটিকা ইনিংস খেলেন গুচ। এক টেস্টে এখন পর্যন্ত এটাই সর্বোচ্চ রান, যা ভাঙা ততটা সহজ হবে না বলেই ক্রিকেট বিশেষজ্ঞদের অভিমত।

 

উল্লেখ্য, গ্রাহাম গুচ ১৯৫৩ সালের ২৩ জুলাই যুক্তরাজ্যের এসেক্স শহরের হুইপস ক্রস এলাকায় জন্ম গ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন ডান-হাতি ব্যাটসম্যান এবং ডান-হাতি মিডিয়াম বোলার। ১৯৯৭ সালে তিনি ক্রিকেট থেকে অবসর নেন। তবে অবসরের পর ব্যাটিং কোচ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন।

#৯. একদিনের ম্যাচে ফিল সিমন্সের ০.৩ ইকোনমি রেট

 

১৯৯২ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে ক্যারিয়ান অলরাউন্ডার ফিল সিমন্স মাত্র ৩ ওভার খরচ করে ০.৩ ইকোনমি রেটে ১০ ওভার বল করেন। তার এই অসাধারণ বোলিং পারফম্যান্স আজও পর্যন্ত রেকর্ড হয়ে আছে একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচের ইতিহাসে।

 

উল্লেখ্য, ফিল সিমন্স ১৯৬৩ সালের ১৮ এপ্রিল ত্রিনিদাদ অ্যান্ড টোবাগোর আরিমায় জন্মগ্রহণ করেন।

 

ডান-হাতি এই অলরাউন্ডার ছিলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের ওপেনিং ব্যাটসম্যান।

#১০. ক্রিস গেইলের ৩০ বলে টি-টোয়েন্ট শতক

 

২০০৪ সালে ক্রিকেটের টি-টোয়েন্টি সংস্করণের শুরুর দিকে ইংলিশ কাউন্টি দল কেন্টের হয়ে অস্ট্রেলিয়ান ব্যাটসম্যান অ্যান্ড্রু সাইমন্ডস মাত্র ৩৪ বলে শতক হাঁকিয়ে রেকর্ড বুকে নাম লেখান। তার এই রেকর্ডটি ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) ২০১৩ পর্যন্ত অক্ষুণ্ন ছিল।  কিন্তু ২০১৩ সালে আইপিএলে রয়েল চ্যালেঞ্জারস বেঙ্গালুরুর হয়ে ক্যারিবিয়ান ব্যাটিং দানব ক্রিস গেইল অপরাজিত ১৭৫ রানের একটি দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন। তার এই অবিশ্বাস্য রান আসে মাত্র ৩০ বলে। সেদিন থেকে উচ্চ পর্যায়ের ক্রিকেট ইতিহাসে সবচেয়ে দ্রততম শতক হিসেবে রেকর্ড বুকে স্থান পায়। এর মাধ্যমে গেইল নিউজিল্যান্ডের ব্রান্ডন ম্যাককালামের অপরাজিত ১৫৮ রানের রেকর্ড ভেঙে দেন।

 

উল্লেখ্য, ক্রিস গেইলের পূর্ণ নাম ক্রিস্টোফার হেনরি গেইল। তিনি ১৯৭৯ সালের ২১ সেপ্টেম্বর ক্যারিবিয়ান দেশ জ্যামেইকার কিংসটনে জন্মগ্রহণ করেন। ২০০৭ থেকে ২০১০ সাল তিনি ওয়েস্ট ইন্ডিজ জাতীয় ক্রিকেট দলকে অধিনায়ক হিসেবে নেতৃত্ব দিয়েছেন।

 

সূত্র: থটকো, স্পোর্টসকীডা ও উইকিপিডিয়া



Copyright © 2019 sportsonly.net